শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বপ্নের খেতে ইঁদুরের দাপট, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ!

চলতি রোপা আমন মৌসুমে গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচর্যা শেষে প্রাথমিক সার-কিটশান প্রয়োগে এই খেত এখন সবুজে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রুপ। এসব ইঁদুরের দাপটে নষ্ট হচ্ছে ধানখেত। ফলে কৃষকের কপালে পড়ছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে- ইঁদুরের হানায় নষ্ট হওয়া ধানখেতের বেদনাপূর্ণ চিত্র।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করেন। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর খরাসহ নানা প্রতিকুল পেরিয়ে আমন ধানচাষ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন এই ধানচারা। এরই মধ্যে এই খেতগুলো গাঢ় সবুজে উপণিত হয়। কারও কারও খেত থোড় হওয়া শরু হয়েছে। এতে করে কৃষকরা আশা করছিলেন অধিক ফলন ঘরে তোলার। কিন্তু বিধিবাম! বেশ কিছু মাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে ইঁদুরের উৎপাত। ধানগাছ কেটে সাবাড় করছে রাক্ষসে এই ইঁদুরের দল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ধানখেত নষ্ট হওয়া মাথায় হাত পড়েছে প্রান্তিক কৃষকের।

মাসুদ মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, নিজের জমি না থাকায় অন্যের ৩০ শতক জমি বর্গা নিয়েছে। সেখানে রোপা আমন ধান আবাদ করেছি। এ থেকে ভালো ফলন নিয়ে ঘরের চালের ভাত খাওয়ার  স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু ঈদুরের আক্রমণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলেছে। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগে পরামর্শ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে বাঁশের ডোঙ্গা ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর নিধনের চেষ্টা করছি।

আরেক কৃষক মোজা মিয়া জানান, ইঁদুরের কবল থেকে খেত রক্ষায় বিভিন্ন ধরণের কিটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, খুব বেশি পরিমাণ খেতে ইঁদুরের আক্রমণ নেই। তবে ইঁদুর নিধনের জন্য দেশিয় পদ্ধতিতে খেতে বাঁশের ফাঁদ ও কলাগাছ স্থাপন করা যেতে পারে। এছাড়া ‘লানির‌্যাট’ নামের গ্যাস ট্যাবলেট খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেতের বিভিন্ন জায়গা রাখলে ইঁদুর দমন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, রোপা আমন খেতে ইঁদুর দমনের জন্য বিষটোপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে সহকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। একইসঙ্গে ভালো ফলন পেতে কৃষকদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

 

জনপ্রিয়

স্বপ্নের খেতে ইঁদুরের দাপট, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ!

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি রোপা আমন মৌসুমে গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচর্যা শেষে প্রাথমিক সার-কিটশান প্রয়োগে এই খেত এখন সবুজে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রুপ। এসব ইঁদুরের দাপটে নষ্ট হচ্ছে ধানখেত। ফলে কৃষকের কপালে পড়ছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে- ইঁদুরের হানায় নষ্ট হওয়া ধানখেতের বেদনাপূর্ণ চিত্র।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করেন। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর খরাসহ নানা প্রতিকুল পেরিয়ে আমন ধানচাষ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন এই ধানচারা। এরই মধ্যে এই খেতগুলো গাঢ় সবুজে উপণিত হয়। কারও কারও খেত থোড় হওয়া শরু হয়েছে। এতে করে কৃষকরা আশা করছিলেন অধিক ফলন ঘরে তোলার। কিন্তু বিধিবাম! বেশ কিছু মাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে ইঁদুরের উৎপাত। ধানগাছ কেটে সাবাড় করছে রাক্ষসে এই ইঁদুরের দল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ধানখেত নষ্ট হওয়া মাথায় হাত পড়েছে প্রান্তিক কৃষকের।

মাসুদ মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, নিজের জমি না থাকায় অন্যের ৩০ শতক জমি বর্গা নিয়েছে। সেখানে রোপা আমন ধান আবাদ করেছি। এ থেকে ভালো ফলন নিয়ে ঘরের চালের ভাত খাওয়ার  স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু ঈদুরের আক্রমণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলেছে। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগে পরামর্শ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে বাঁশের ডোঙ্গা ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর নিধনের চেষ্টা করছি।

আরেক কৃষক মোজা মিয়া জানান, ইঁদুরের কবল থেকে খেত রক্ষায় বিভিন্ন ধরণের কিটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, খুব বেশি পরিমাণ খেতে ইঁদুরের আক্রমণ নেই। তবে ইঁদুর নিধনের জন্য দেশিয় পদ্ধতিতে খেতে বাঁশের ফাঁদ ও কলাগাছ স্থাপন করা যেতে পারে। এছাড়া ‘লানির‌্যাট’ নামের গ্যাস ট্যাবলেট খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেতের বিভিন্ন জায়গা রাখলে ইঁদুর দমন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, রোপা আমন খেতে ইঁদুর দমনের জন্য বিষটোপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে সহকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। একইসঙ্গে ভালো ফলন পেতে কৃষকদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।