মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রতন মিয়া। এক সময়ে তার সংসারে দেখা দেয় টানাপোড়েন। আর্থিক স্বচ্ছলতায় ফিরতে শুরু করেন বিদেশী জাতের ছাগল পালন। এ খামার করেই ঘুরিয়েছে ভাগ্যের চাকা। গুডবাই জানিয়েছে দরিদ্রতাকে।
বৃধাবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমাড়ী গ্রামে দেখা যায় রতন মিয়ার খামারের চিত্র। এসময় একঝাঁক ছাগলের খাবার দিচ্ছেলেন তিনি।
জানা যায়, এক সময়ে রতন মিয়ার সংসারে অস্বচ্ছলতার সৃষ্টি হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নানা স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরই মধ্যে ৩ বছর আগে শুরু করে বিদেশী জাতের ছাগল পালন। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া স্থানীয় অন্য একটি খামারীকে অনুসরণ নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন ছাগলের খামার। প্রথমে ১৫ টি ছাগল কিনে প্রতিপালন শুরু করা হয়। এরপর প্রজনন থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ টি ছাগল বিক্রি করেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে আরও ৬০ টি ছাগল।
ম্যাচিং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলেছেন তিনি। জাতের মধ্যে রয়েছে ব্লাক বেঙ্গল, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ছাগল প্রভৃতি। রতন নিজেই ছাগলের খাওয়ানো পরিচর্যা থেকে শুরু করে ছাগলের সবকিছু দেখাশুনা করছেন। এছাড়াও বাড়ির পাশের পতিত জমিতে আবাদ করেছেন বিদেশী জাতের ঘাস। যা ছাগলের জন্য উৎকৃষ্টমানের খাবার। ঘাস দিয়েই ছাগলের খাবারের বেশিরভাগ চাহিদা মেটাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ছাগল পালন করেই অনেকটাই স্বাবলম্বি হয়েছেন তিনি।
খামার সম্পর্কে রতন মিয়া জাগো২৪.নেট-কে জানান, একটি ছাগলের বছরে দুইবার প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার পিপিআর, গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই আর কোনও ওষুধ লাগে না। দুই চারটে বড়ি লাগলেও লাগতে পারে। অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় কাঁচা ঘাস, গম, ভুট্টা ও ছোলা বুটের গুড়ো সেই সঙ্গে সয়াবিন ও খড়ের ছন। যা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর। এছাড়াও দেশের বাজারে এসব ছাগলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এই খামর করেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরেছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন জাগো২৪.নেট-কে জানান, রতন মিয়ার ছাগলের খামার পরিদর্শন করা হয়েছে। তাকে লাভবান করতে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 















