বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ উত্তোলন 

পীরগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর, সীলমোহর জালিয়াতি করে পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক থেকে গত ১৭ই এপ্রিল পি.এল ৪৯৬১ নম্বরে ঋণ গ্রহন করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাহামুদুল হাসান (৩৫) এবং উক্ত ঋণের জিম্মদার হয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) রুনা আক্তার।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলামের নিকট ঋণ উত্তোলনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তথ্য গোপন রেখে প্রতিবেদন না দিয়ে তালবাহানা করেন। বিষয়টি জরুরী বিবেচনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রংপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালাত (পীরগঞ্জ) ক্রমিক নং- আরবি ২১-২২ এবং ৪৭৬৭৭ নম্বরে অধ্যক্ষ বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাহামুদুল হাসান এবং জিম্মাদার তার সহধর্মীনি কনা আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দাখিলের পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপককে উক্ত ঋণের বিপরীতে কাগজপত্র সংরক্ষণ করার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপক বরাবর নোটিশ জারি করেন এবং মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি তদন্ত, রংপুর এর উপর অর্পন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মাহ্তাবিয়া দ্বি-মুখী স্কুল এন্ড কলেজে। মামলার বিবরণে জানা যায় অভিযুক্ত মাহামুদুল হাসান ওই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক।

গত ১৭ই এপ্রিল পিএলও ৪৯৬১ নম্বরে ০৮ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ঋণ গ্রহন করতে ইচ্ছুক থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে ভাতার পরিমান, পদ-পদবী সহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ পূর্বক প্রত্যয়ন গ্রহণ করা আবশ্যক। কিন্তু মাহামুদুল হাসান প্রত্যয়ন গ্রহণ না করেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর, সীলমোহর ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিজেই সৃজন করে ০৮ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।

বিষয়টি প্রকাশিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে প্রদেয় ঋণের বিপরীতে ফাইলপত্র দেখতে চান। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম ফাইল না দিয়ে কালক্ষেপন করেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রংপুর, পীরগঞ্জ বিজ্ঞ আমলি আদালতে ঋণ গৃহীতা শিক্ষক ও জিম্মাদার সহকারী শিক্ষক কনা আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরেও বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ঋণের ফাইলটি সংরক্ষণ করার আদেশ প্রদান করেন এবং মামলাকে অধিকতর তদন্তের জন্য রংপুর সিআইডি তদন্ত মহোদয়কে দায়িত্ব প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট কথা হলে তিনি বলেন এটি পূর্ব পরিকল্পিত মামলা এবং সোনালী ব্যাংকে আমার কোন ঋণ নেই। ঋণের জিম্মাদার কনা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন এটি পূর্বপরিকল্পিত মামলা।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন নেয়ার বিধান থাকলেও প্রত্যয়নটি ঋণের ফাইলে ছিল কিন্তু যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

জনপ্রিয়

অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ উত্তোলন 

প্রকাশের সময়: ০৭:২৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২

পীরগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর, সীলমোহর জালিয়াতি করে পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক থেকে গত ১৭ই এপ্রিল পি.এল ৪৯৬১ নম্বরে ঋণ গ্রহন করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাহামুদুল হাসান (৩৫) এবং উক্ত ঋণের জিম্মদার হয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) রুনা আক্তার।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলামের নিকট ঋণ উত্তোলনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তথ্য গোপন রেখে প্রতিবেদন না দিয়ে তালবাহানা করেন। বিষয়টি জরুরী বিবেচনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রংপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালাত (পীরগঞ্জ) ক্রমিক নং- আরবি ২১-২২ এবং ৪৭৬৭৭ নম্বরে অধ্যক্ষ বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাহামুদুল হাসান এবং জিম্মাদার তার সহধর্মীনি কনা আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দাখিলের পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপককে উক্ত ঋণের বিপরীতে কাগজপত্র সংরক্ষণ করার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপক বরাবর নোটিশ জারি করেন এবং মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি তদন্ত, রংপুর এর উপর অর্পন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মাহ্তাবিয়া দ্বি-মুখী স্কুল এন্ড কলেজে। মামলার বিবরণে জানা যায় অভিযুক্ত মাহামুদুল হাসান ওই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক।

গত ১৭ই এপ্রিল পিএলও ৪৯৬১ নম্বরে ০৮ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ঋণ গ্রহন করতে ইচ্ছুক থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে ভাতার পরিমান, পদ-পদবী সহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ পূর্বক প্রত্যয়ন গ্রহণ করা আবশ্যক। কিন্তু মাহামুদুল হাসান প্রত্যয়ন গ্রহণ না করেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর, সীলমোহর ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিজেই সৃজন করে ০৮ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।

বিষয়টি প্রকাশিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে প্রদেয় ঋণের বিপরীতে ফাইলপত্র দেখতে চান। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম ফাইল না দিয়ে কালক্ষেপন করেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রংপুর, পীরগঞ্জ বিজ্ঞ আমলি আদালতে ঋণ গৃহীতা শিক্ষক ও জিম্মাদার সহকারী শিক্ষক কনা আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরেও বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ঋণের ফাইলটি সংরক্ষণ করার আদেশ প্রদান করেন এবং মামলাকে অধিকতর তদন্তের জন্য রংপুর সিআইডি তদন্ত মহোদয়কে দায়িত্ব প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট কথা হলে তিনি বলেন এটি পূর্ব পরিকল্পিত মামলা এবং সোনালী ব্যাংকে আমার কোন ঋণ নেই। ঋণের জিম্মাদার কনা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন এটি পূর্বপরিকল্পিত মামলা।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন নেয়ার বিধান থাকলেও প্রত্যয়নটি ঋণের ফাইলে ছিল কিন্তু যাচাই-বাছাই করা হয়নি।